Header Ads

বিশ্ব ঐতিহ্য ষাট গম্বুজ মসজিদ - শত বছরের ইতিহাস ও স্থাপত্য নিদর্শন


বিশ্বের আনাচে কানাচে লুকিয়ে আছে হাজারো ঐতিহাসিক স্থাপনা। কোনও স্থাপনা প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট আবার কোনও স্থাপনা মানুষের সৃষ্টি করা। আর তেমনই একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা আমরা আজ ঘুরে দেখবো। আপনি হয়তো ষাট গম্বুজ মসজিদের কথা শুনেছেন। হ্যা দর্শক, ষাট গম্বুজ মসজিদ শত বছরের একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা। এই মসজিদটি ইউনেস্কো কর্তৃক ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে স্বীকৃত। আজকের পর্বে আমি আপনাদের এই মসজিদটি ঘুরে দেখাবো এবং সেই সাথে আপনি জানতে পারবেন এই মসজিদের সঠিক ইতিহাস।

ঐতিহাসিক ষাট গম্বুজ মসজিদটি বাংলাদেশের দক্ষিণে বাগেরহাট জেলায় অবস্থিত। সুলতান নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহের আমলে খান আল-আজম উলুগ খানজাহান সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে খলিফাবাদ রাজ্য গড়ে তোলেন ১৫ শতকে খানজাহান তার অনুসারীদের সাথে বৈঠক ও নামাজ আদায়ের জন্য একটি দরবার হল গড়ে তোলেন, যেটি পরবর্তীতে নামকরণ হয় ষাট গম্বুজ মসজিদ মসজিদটি বহু বছর ধরে বহু অর্থ খরচ করে নির্মাণ করা হয়েছিল মসজিদটি তৈরি করার জন্য পাথর নিয়ে আসা হয়েছিল ভারতের রাজমহল থেকে তুঘলকি জৌনপুরীর সুনিপুন নির্মাণশৈলী লক্ষ্য করা যায় এই স্থাপনায়।

বর্তমানে মসজিদটির চারধারে প্রাচীর দ্বারা বেশ্ঠিত। মসজিদের প্রাচীরের ভিতরে প্রবেশ করতে হলে আপনাকে সরকার নির্ধারিত ফি প্রদান করে ঢুকতে হবে। মসজিদের অভ্যন্তরিন সৌন্দর্য দেখেই আপনি মোহিত হবেন ভিতরে প্রবেশ করার সাথে সাথেই। সবুজ ঘাস, গাছ আর ফুলে ফুলে ছেয়ে আসে ভিতরের সৌন্দর্য। সরকারি পৃষ্টপোশকতায় মসজিদের চতুর্দিকে বৃক্ষরাজি দিয়ে সাজানো হয়েছে অপরুপ সাজে। প্রধান ফটক দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করলে ডান ধারে প্রথমে চোখে পড়বে একটি যাদুঘর। এটি বাগেরহাট যাদুঘর। খানজাহান আলীর ব্যবহৃত বিভিন্ন জিনিসপত্র এবং তার সমসাময়িক মানুষদের ব্যবহৃত নানান জিনিসপত্র প্রদর্শন করা আছে এই যাদুঘরে।


মসজিদের ফটক অতিক্রম করলে আপনি দেখতে পাবেন ফটকের দুই ধারে খানজাহানের অজ্ঞাত অনুসারীদের বেশি কিছু কবর। মূল মসজিদটি পোড়া মাটির রংয়ে এক অসাধারণ সৌন্দর্যে ৫০০শত বছর ধরে দাড়িয়ে আছে। মসজিদটি উত্তর-দক্ষিণে বাইরের দিকে প্রায় ১৬০ ফুট ভিতরের দিকে প্রায় ১৪৩ ফুট লম্বা এবং পূর্ব-পশ্চিমে বাইরের দিকে প্রায় ১০৪ ফুট ভিতরের দিকে প্রায় ৮৮ ফুট চওড়া দেয়ালগুলো প্রায় · ফুট পুরু ষাট গম্বুজ মসজিদে গম্বুজের সংখ্যা মোট ৮১ টি, সাত লাইনে ১১ টি করে ৭৭ টি এবং চার কোনায় টি সহ মোট ৮১ টি গম্বুজ কালের বিবর্তনে লোকমুখে ৬০ গম্বুজ বলতে বলতে ষাট গম্বুজ নামকরণ হয়ে যায় এই মসজিদের, এবং সেই থেকে ষাট গম্বুজ নামেই পরিচিত

মসজিদটির পূর্ব দেয়ালে ১১টি বিরাট আকারের খিলানযুক্ত দরজা আছে মাঝের দরজাটি অন্যগুলোর চেয়ে বড় উত্তর দক্ষিণ দেয়ালে আছে ৭টি করে দরজা মসজিদের কোণে ৪টি মিনার আছে এগুলোর নকশা গোলাকার এবং এরা উপরের দিকে সরু হয়ে গেছে এদের কার্ণিশের কাছে বলয়াকার চূঁড়ায় গোলাকার গম্বুজ আছে মিনারগুলোর উচ্চতা ছাদের কার্নিশের চেয়ে বেশি সামনের দুটি মিনারে প্যাঁচানো সিঁড়ি আছে এবং এখান থেকে আজান দেবার ব্যবস্থা ছিল এদের একটির নাম রওশন কোঠা, অপরটির নাম আন্ধার কোঠা মসজিদের ভেতরে ৬০টি স্তম্ভ বা পিলার আছে এগুলো উত্তর থেকে দক্ষিণে সারিতে অবস্থিত এবং প্রত্যেক সারিতে ১০টি করে স্তম্ভ আছে প্রতিটি স্তম্ভই পাথর কেটে বানানো, শুধু ৫টি স্তম্ভ বাইরে থেকে ইট দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে এই ৬০টি স্তম্ভ চারপাশের দেয়ালের উপর তৈরি করা হয়েছে গম্বুজ


মসজিদের সামনে রয়েছে বিশাল একটি দিঘি। এই দিঘিটির নাম ঘোড়া দিঘি বা খাঞ্জালীর দিঘি। দিঘিটির মোট পরিমাপ পূর্ব পশ্চিমে ১২৪৭ ফুট এবং উত্তর দক্ষিণে ৭৪০ ফুট। জনশ্রুত রয়েছে, খানজাহান আলী সমগ্র বাগেরহাট অঞ্চলে ৩৬০টির মতো দিঘি খনন করেছিলেন তার অনুসারিদের পানির চাহিদা মেটানোর জন্য। এই দিঘির নামকরণে কথিত কাহিনী প্রচলিত আছে। বলা হয় দিঘি খনন করার পর দিঘিতে পানি না উঠার কারণে খান জাহান আলী দিঘির ভিতরে ঘোড়া চালিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছিলেন, আর তাই এই দিঘির নাম ঘোড়া দিঘি হয়েছে। মসজিদে আগত ভ্রমণ পিপাসু মানুষেরা এই দিঘিতে গোসল করে এবং নামাজের জন্য অজু করে থাকে।

১৫ শতকের মসজিদ এখনও দাড়িয়ে আছে সুঠাম দেহে এবং এটি প্রতিদিন মুখরিত থাকে হাজারো দর্শনার্থীর ভিড়ে। এই মসজিদটি বিশ্ব ঐতিহ্য হওয়ার কারণে বাংলাদেশ ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে দর্শনার্থীরা মসজিদটি দেখতে আসে। মসজিদের অদূরে রয়েছে খানজাহান আলীর সমাধী সৌধ ও দিঘি। সেখানও প্রতিদিন হাজার হাজার দর্শনার্থীর আগমণ ঘটে থাকে।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.