Header Ads

বিস্ময়কর গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন – কোটি বছরের পাথরের উপত্যকা

গ্রান্ড ক্যানিয়ান, বিশ্বের আশ্চার্য এক এলাকা। লাল পাথর আর পাহাড়ের বিস্ময়কর এই অঞ্চলটি বহু বছর ধরে রহস্যে ঘেরা। রুক্ষ শুষ্ক এবং নিভৃত শত মাইল ব্যাপী বিস্তৃত জনপদহীন এই এলাকাটিকে নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। আজকের পর্বে আমরা ঘুরে দেখবো সমগ্র গ্রান্ড ক্যানিয়ান অঞ্চলটি, এবং জানার চেষ্টা করবো কি রহস্য আছে এই অঞ্চলকে ঘিরে। 

গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত একটি গিরিখাত এই গিরিখাতের মধ্য দিয়ে কলোরাডো নদী বয়ে গেছে এই গিরিখাতের দৈর্ঘ্য ২৭৭ মাইল এবং প্রস্থ ০.২৫ থেকে ১৮ মাইল পর্যন্ত এবং প্রায় ১৮০০ মিটার গভীর প্রেসিডেন্ট থিওডোর রুজভেল্ট এই গিরিখাতের সংরক্ষণে একটি বড় ভূমিকা পালন করেন তিনি প্রায়ই এখানে শিকার এবং ভ্রমণের উদ্দেশ্যে আসতেন

গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের মধ্য দিয়ে কলোরাডো নদী প্রবাহিত হওয়া শুরু করে কমপক্ষে ১৭ মিলিয়ন বছর আগে তখন থেকে কলোরাডো নদী তার প্রবাহ এবং ভূমি ক্ষয়ের মাধ্যমে বর্তমানের এই ক্যানিয়নের জন্ম দিয়েছে প্রাকৃতিক যে সব বিস্ময় মানুষকে যুগে যুগে মুগ্ধ করেছে গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন তার মধ্যে একটি অন্যতম ৪৪৬ কিলোমিটার লম্বা, ৬.৪ থেকে ২৯ কিলোমিটার পর্যন্ত প্রসস্থ আর ১.৮৩ কিলোমিটার গভীর গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন পৃথিবীর ২০০ কোটি বছরের ইতিহাসের স্বাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে আছে

স্থানীয় আমেরিকানদের বাইরে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে এই গিরিখাত আবিষ্কার করেন স্প্যানিশ অভিযাত্রিক গার্সিয়া লোপেজ প্রায় ৩০০ বছর পর ১৮৮০ সালে কপার খনির সন্ধানে এসে একদল খনি শ্রমিক এই অঞ্চলে বসতি গড়ে তোলে কিন্তু এই গিরিখাতের মতো দুর্লভ প্রাকৃতিক নিদর্শন যেন ধ্বংস না হয়ে যায়, এজন্য ১৮৯৩ সালে সরকারি তত্ত্বাবধানে এখানকার বনজ সম্পদ সংরক্ষণ শুরু হয় ১৯০১ সালের দিকে গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন পর্যটনশিল্পে পরিণত হয় অল্প সময়ের মধ্যে এটি সারাবিশ্বের পর্যটকদের আকর্ষণে পরিণত হয়।

গিরিখাতের আবহাওয়া কিছুটা শুষ্ক পার্কের শুষ্ক পরিবেশে প্রায় ৩৫৫ প্রজাতির পাখি, ৮৯ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ৪৭ প্রজাতির সরীসৃপ, প্রজাতির উভচর এবং ১৭ প্রজাতির মাছের নিবাস রয়েছে গিরিখাতের সমতলে কিছুটা মরু পরিবেশ থাকলেও উঁচু স্থানগুলোতে ছোট থেকে মাঝারি আকারের বনাঞ্চল দেখা যায় এই বনাঞ্চলে প্রায় দেড় হাজার প্রজাতির উদ্ভিদের সন্ধান পাওয়া গেছে গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন উত্তর এবং দক্ষিণ দুই অঞ্চলে বিভক্ত দক্ষিণ অংশে প্রায় ৯০% দর্শনার্থীর আগমন ঘটে কিছুটা দুর্গম হলেও অভিযানপ্রেমীদের প্রথম পছন্দ উত্তর অংশ কারণ গিরিখাতের সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্যগুলো এখান থেকেই দেখা যায়



পৃথিবীর বুক থেকে মানুষ ও হাজারো সভ্যতা সময়ের সাথে হারিয়ে গেলেও কোটি বছরের ইতিহাসের স্বাক্ষী হয়ে আজও মাথা উচু করে দাড়িয়ে আছে গ্রান্ড ক্যানিয়ন।

 

 

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.