Header Ads

রাস্তার মাঝে ব্যতিক্রমী বিমান বন্দর !

মনে করুন আপনি কোনও শহরের রাস্তায় হেটে বেড়াচ্ছেন এমন সময় হঠাৎ দেখলেন রাস্তায় ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে এবং তার দুই তীরে সারি সারি গাড়ি দাড়িয়ে আছে, এরপর বিকট শব্দে রাস্তার মাঝ দিয়ে একটি বিমান চলে গেল। কি অবাক হলেন? এমন কি সম্ভব? এমন রাস্তা বা বিমান বন্দর বিশ্বের কোথাও কি আছে? ভাবছেন, হ্যাঁ আছে। এমনই একটি বিমান বন্দর আছে ইউরোপ মহাদেশের ছোট্ট একটি দেশ জিব্রালটারে।

সেখানকার উইনস্টন চার্চিল সড়কটি জিব্রালটার এয়ারপোর্টের রানওয়েকে দুই ভাগে ভাগ করে সোজা স্পেনে চলে গেছে। আর এ কারণেই যখন কোনোও বিমান জিব্রালটার এয়ারপোর্টে অবতরণ বা উড্ডয়ন করে তখন উইনস্টন চার্চিল রোডটি দুই ধারে ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয়। বিমানের উড্ডয়ন বা অবতরণ শেষ হলে আবার সড়ককে খুলে দেওয়া হয় অনেকটা রেললাইনের লেভেল ক্রসিংয়ের মতো। 

জিব্রালটার ব্রিটিশদের অধীনস্থ একটি দেশ এবং গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌ-ঘাঁটি। সে কারণে জিব্রালটারে ব্রিটিশদের আনাগোনার হার অনেক বেশি। তাদের এই আনাগোনাকে সহজ ও দ্রুত করতে জিব্রালটারের সুবিধাজনক স্থানে একটা বিমানবন্দর স্থাপন করা খুবই জরুরী হয়ে পড়েছিল। কিন্তু এরই মধ্যে শুরু হয়ে যায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। ফলে তাড়াহুড়ো করে বানিয়ে ফেলা হয় জিব্রালটার এয়ারপোর্ট। 
১৯৩৯ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে যখন এটি যাত্রা শুরু করে তখন এটির সামরিক গুরুত্ব ছিল বেশি। ব্রিটিশ সেনাবাহিনী এটাকে জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য নির্মাণ করেছিল। সে কারণে প্রতিষ্ঠার পর এখানে শুধু সামরিক বিমান উঠানামা করলেও বর্তমানে এই এয়ারপোর্ট থেকে সামরিক এবং পরিবহন দুই ধরনের বিমানই চলাচল করে। 

প্রথমদিকে এর রানওয়ের দৈর্ঘ্য কম ছিল বলে এখান থেকে পরিবহন বিমান উড্ডয়ন করতে পারত না। সে কারণে পরবর্তীতে জিব্রালটার উপসাগরে পাথর ফেলে এর রানওয়ের দৈর্ঘ্য বাড়ানো হয়। বর্তমানে এই বিমান বন্দরের রানওয়ের পরিধি ১৮২৮ মিটার বা ৬০০০ ফুট। পৃথিবীতে যে কয়টা উন্নত ও আধুনিক বিমান বন্দর আছে জিব্রালটার এয়ারপোর্ট তাদের মধ্য অন্যতম। শহরের কেন্দ্রস্থল থেকে মাত্র পাঁচশ' মিটার দূরে এই বিমান বন্দরের অবস্থান। বর্তমানে স্পেন এবং যুক্তরাজ্যের বিমান সংস্থাগুলো জিব্রালটার এয়ারপোর্টে নিয়মিত যাত্রী এবং মালামাল পরিবহন করছে। 

জিব্রালটার এয়ারপোর্টের মালিক সে দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনী। কিন্তু এই বিমান বন্দর পরিচালনার দায়িত্বে আছে জিব্রাল্টার সরকার। এই বিমান বন্দরে যখন কোনো বিমান উড্ডয়ন কিংবা অবতরণ করার সময় হয় তখন এয়ারপোর্টের কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে লেভেল ক্রসিংয়ের সংশ্লিষ্টদের দ্রুত সেটা জানিয়ে দেওয়া হয়। নির্দেশ মোতাবেক নিরাপত্তারক্ষীরা রাস্তার দু'পাশের ব্যারিকেড নামিয়ে ফেলেন। ব্যারিকেডের সামনে গাড়িগুলো সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে যতক্ষণ না বিমানে উঠানামার কাজ শেষ হয়। কাজ শেষ হওয়ার পর কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে নির্দেশ পেলে আবার ব্যারিকেড তুলে নেওয়া হয়। 

বছরের পর বছর ধরে জিব্রালটার এয়ারপোর্ট এভাবেই চলছে। যদিও এই ব্যবস্থার কারণে বিমানের নিরাপত্তা খানিকটা বিঘ্নিত হয় তবুও এখন পর্যন্ত সেখানে কোনো দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। একই সড়কে গাড়ি এবং বিমান একসাথে চলার দুর্লভ দৃশ্য দেখা যায় এই স্থান থেকে, যা বিশ্বের আর কোথাও নেই। প্রতি বছর অনেক দর্শনার্থী শুধু এই দৃশ্য দেখার জন্য জিব্রালটারে আগমন করে থাকে।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.