Header Ads

বিশ্বের যে সকল স্থানে নগ্ন হওয়ার অনুমতি আছে (পর্ব ১)

বিশ্ব ক্রমে এগিয়ে যাচ্ছে না যাচ্ছে পিছিয়ে? বিশ্ব কি দিন দিন আধুনিক হচ্ছে নাকি হচ্ছে অসভ্য? পৃথিবীর মানুষ কি ধীরে ধীরে স্বাধীনতা প্রেমী হচ্ছে নাকি বেহায়ায় পরিণত হচ্ছে? প্রশ্নগুলো আজ মহা মূল্যবান প্রশ্ন। কারণ এর সঠিক উত্তর হয়তো কেউ দিতে পারবেনা। মুসলমান ধর্মাবলম্বী বা সঠিকভাবে যে কোনও একটি ধর্ম পালনকারী কোন ব্যক্তির কাছে যদি আপনি এই প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেন তবে তারা বলবে বিশ্ব পিছিয়ে যাচ্ছে, বিশ্ব হচ্ছে অসভ্য এবং মানুষ হচ্ছে বেহায়া।

একই প্রশ্ন যদি আপনি ইউরোপ বা আমেরিকাতে গিয়ে জিজ্ঞাসা করেন তবে তাদের উত্তর হবে বিশ্ব হচ্ছে আধুনিক ও মানুষেরা হচ্ছে স্বাধীনচেতা। প্রশ্নগুলোর উত্তর যাহাই হোক সেটা আমাদের বিষয় নয়। প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করার দায়িত্ব পাঠকদের।

ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, পৃথিবীর আদি মানুষেরা ছিল অসভ্য, বর্বর ও লজ্জাহীন। তাদের কাছে খুন, ধর্ষণ কোনও অপরাধ হিসেবে বিবেচিত ছিল না। মানুষ পোশাক বিহীন উলঙ্গ অবস্থায় জীবন যাপন করতো বা চলাফেরা করতো। খ্রিষ্টপূর্ব ৫০০০ অব্দে মেসিপোটেমিয়ায় পৃথিবীর প্রথম সভ্যতার পত্তন হবার পর থেকে মানুষ ধীরে ধীরে আধুনিক সভ্যতা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করতে শুরু করে। 

মেসোপটেমিয়া সভ্যতার পর বিশ্বব্যাপী মিশরীয়, সুমেরীয়, ব্যাবিলনীয়, মায়া, আজটেক, এক্সিমো, চীনা সহ প্রায় ২১টি সভ্যতার উদ্ভব ঘটে। এই সভ্যতাগুলো মানুষকে সভ্য হতে শিখিয়েছে। এরপর রেনোসাঁঅষ্টাদশ শতাব্দীতে যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিত শিল্প বিপ্লবের ফলে বিশ্বে ব্যাপী পোশাকের ব্যবহার অবিশ্বাস্য হারে বৃদ্ধি পায়। মানুষ এই সময় থেকে বিভিন্ন আকারের ও ডিজাইনের পোশাক পরিচ্ছেদ পরিধান করতে শুরু করে।

বিশ্বের শ্রেষ্ঠ মহামানব মোহাম্মদ (সাঃ), যিশু খ্রিষ্ট, মুসা, শ্রীকৃষ্ণ সহ যে ধর্ম প্রচারকের নামই বলা হোক না কেন সকলেই এই পৃথিবীর মানুষদেরকে সভ্য হবার শিক্ষা দিয়ে গেছেন। আজ থেকে ৫০ বছর আগেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপে মহিলারা পর্দার মধ্যে থাকতো। এখান থেকে ৬০-৭০ বছর আগে মহিলারা সাতার প্রতিযোগিতায়ও সমস্ত দেহ আবৃত পোশাক পরা অবস্থায় পানিতে নামত। কিন্তু এরপর যত দিন গেছে আধুনিকতার নামে মহিলারা পোশাক কমাতে শুরু করেছে। 

বছরের পর বছর সেটি হ্রাস করতে করতে আজ তা শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। একটা সময় ছিল যখন সমুদ্র সৈকত সমূহ পারিবারিক ভ্রমণ ও রুচিশীল বিনোদনের কেন্দ্র ছিল কিন্তু লাজ-লজ্জা ভুলে আজ সে গুলোয় নগ্নতার ছড়াছড়ি। সমুদ্র সৈকত সহ বিশ্বের অনেক স্থান এখন নারী-পুরুষদের নগ্ন হওয়ার কেন্দ্র। সেই সকল স্থান সমূহে একই সাথে শত শত নারী-পুরুষ উলঙ্গ অবস্থায় চলাফেরা করে ও সমুদ্র বা রোদ্রু স্নান করে। সবচেয়ে অবাক বিষয় এই যে, কিছু কিছু স্থানে পরিবারের সবাই মা, বাবা, ভাই, বোন একই সাথে নগ্ন হয়। বিশ্বের এই সকল স্থান সমূহের পরিচিতি ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করা হবে। আজ প্রথম পর্বে ইউরোপের স্থান সমূহের বর্ণনা দেয়া হলো।
 

ইউরোপের রাষ্ট্র সমূহ:


ইউরোপ মহাদেশের অনেক দেশে আছে মানুষের স্বাধীনভাবে নগ্ন হওয়ার স্থান। এই স্থান সমূহের বেশীর ভাগই সমুদ্র সৈকতকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। কোন রকম বিধি নিষেধ ছাড়াই এই সকল স্থানে উলঙ্গ অবস্থায় চলাফেরা, সাগরের পানিতে গোসল করা বা যৌনাচারে লিপ্ত হওয়া যায়।

ক্রোশিয়ার একটি নগ্ন সৈকত

অষ্ট্রিয়া: 


ইউরোপের একটি রাষ্ট্র অস্ট্রিয়া। ক্যারেনথিয়া এই দেশের একটি প্রদেশ। এ‌ই প্রদেশে আছে দুটি সমুদ্র সৈকত। কুয়েতক্যাচার ও তিগরিনজার নামক এই দুটি সৈকতে আছে নগ্ন হবার সুযোগ। বিনা বাধায় উৎসব সহকারে মানুষ এখানে নগ্ন হয়ে চলাফেরা করতে পারে। অস্ট্রিয়ার প্লিসচিনজার ও উইকারল এমনই আরও দুটি সৈকত যেখানে নগ্ন হয়ে গোসল করা বা সূর্য স্নানের সুযোগ রয়েছে। ভিয়েননার ডোনায়ুনসেল নামক দ্বীপে পর্যটকদের উলঙ্গ হবার স্বাধীনতা দেয়া আছে।

চেক রিপাবলিক: 


অফিসিয়ালি চেক রিপাবলিকে ৫০টির মতো প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মণ্ডিত স্থান আছে। চেক রিপাবলিকে জনসাধারণের নগ্নতা অবৈধ নয়। তবে এটি নিয়ন্ত্রণ করা হয় স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে। নগ্ন হবার ফলে কেউ আক্রমণের শিকার হতে পারে সেজন্য এখানে কর্তৃপক্ষ সর্বদা স্থানীয় পরিস্থিতির উপর নজর রাখে।

ক্রোশিয়া: 


পেনিনসোলার কোভেরসাদায় আছে নগ্ন হবার ব্যবস্থা। এটি ইউরোপের অন্যতম প্রধান একটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মণ্ডিত এলাকা। ক্রোশিয়ার ক্রেস দ্বীপে রয়েছে দুটি সুন্দর সমুদ্র সৈকত। এখানে রয়েছে অনেক সুন্দর সুন্দর হোটেল ও মোটেল। এখানে জনসাধারণ অবস্থান করতে পারে। এই দ্বীপ গুলোতে রয়েছে নগ্নতার ছড়াছড়ি। এছাড়া ক্রোশিয়ার কার্ক, লোজিন্চ, লোকরুম দ্বীপ এবং কাসুনি, নুগাল, সেভ পিটার সমুদ্র সৈকতে নারী-পুরুষের নগ্ন হবার রয়েছে অবাধ স্বাধীনতা।

ইউক্রেনের একটি নগ্ন সৈকত

ডেনমার্ক: 


ডেনমার্কের সকল সমুদ্র সৈকত সমূহে পোশাক পরিধান করতে হয়। এখানের সমুদ্র সৈকত সমূহে নগ্ন হওয়া নিজের ইচ্ছার উপর নির্ভর করে। এখানে যে কেউ নগ্ন হতে পারে যদি তাতে অন্য কারোও অসুবিধা সৃষ্টি না হয়।

ইস্তোনিয়া: 


ইস্তোনিয়ায় রয়েছে দুটি সমুদ্র সৈকত। টাললিন নামক সৈকতটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মণ্ডিত সৈকত। এটি ফেরি বন্দর থেকে ৩ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত। অপর সৈকতটির নাম পারনু। এই সৈকতগুলিতে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশার সুযোগ রয়েছে।

ফিনল্যান্ড: 


ফিনল্যান্ডের হিলসিংকিতে রয়েছে দুটি সমুদ্র সৈকত। পিহলাজাসসারি নামক সৈকতটি নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য পরিপূর্ণ নগ্ন সৈকত। এটা ক্লিফস পর্বতের পাশে হওয়ায় এই সৈকতে কোনও বালি নেই। ফলে এখানে গোসল করা সহজ নয়। অপর সৈকত সিউরাসারিতে নারী-পুরুষের পৃথকভাবে নগ্ন হতে হয়। এখানে উভয়ের একই সাথে নগ্ন হবার ব্যবস্থা নেই। হিলসিংকিতে জোরজোনকাতু নামক একটি সুইমিং হল আছে। যেখানে সপ্তাহে নারী-পুরুষ পৃথকভাবে নগ্ন হয়ে সাতার কাটতে পারে। ফিনল্যান্ডের পরি শহরে ইয়েতরি নামক একটি ছোট সৈকত আছে। যেটিতে নারী-পুরুষরা অবাধে নগ্ন হয়ে আনন্দ করতে পারে। এই সৈকতটি বালি দ্বারা বেষ্টিত ও সমান, ফলে এখানে সাতার কাটা সহজ।

নরওয়ের একটি নগ্ন সৈকত

ফ্রান্স: 


ফ্রান্সের আটলান্টিক উপকূলে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যময় অনেক জায়গা আছে। এখানে বালুময় সমুদ্র সৈকত, বিভিন্ন সুইমিং পুল রয়েছে। যেখানে নারী-পুরুষেরা নগ্ন হতে পারে। ফ্রান্সে নগ্ন হয়ে শপিং করা বা কেনাকাটা করার ব্যবস্থাও আছে। ফ্রান্সের সমুদ্রগুলোতে অনেক নদী আছে। আবার আল্পস, পিরেনিজ, সিভেনিজে অনেক রিসোর্ট আছে। যেখানে ইচ্ছা করলে নারী-পুরুষেরা নগ্ন হতে পারে। ফ্রান্সের প্রত্যেকটা সৈকতে সর্বদা নগ্ন পর্যটকদের ভিড়ে ঠাসা থাকে এবং সেখানে লোকেরা নগ্নতায় সবোর্চ্চ স্বাধীনতা ভোগ করে থাকে।

জার্মানি: 


জার্মানিতে জনসাধারণের নগ্নতা অবৈধ নয়। তবে এটা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদারকি করা হয় তাদের সামাজিক নিরাপত্তা স্বাস্থ্য ঝুঁকির হাত থেকে বাঁচানোর জন্য। শহরের বাসা-বাড়ির জলধার ও জনগণের গোসল করার কেন্দ্র গুলিতে মানুষ উলঙ্গ হয়ে গোসল করতে পারে। উলঙ্গ হয়ে গোসল করার জন্য মাঝে মাঝে সুইমিং পুল গুলিতে আনুষ্ঠানিকভাবে দিন ধার্য করা হয়। জার্মানিতে নগ্ন হয়ে গোসল করা একটি সাধারণ বিষয়। সেখানের সৈকত ও লেকগুলিতে মানুষ হরহামেশাই নগ্ন হয়ে গোসল করে। জার্মানির সমুদ্র এলাকাগুলিতে ও লেকগুলিতে নগ্ন হয়ে গোসল করার জন্য অনেকগুলো স্থান আছে। বিশেষ করে পূর্ব জার্মানিতে এই এলাকাগুলো বেশী অবস্থিত। 

যেখানে নগ্ন হবার স্থানগুলো আরও বেশী বড়। অনিয়মিতভাবে মানুষজন উলঙ্গ অবস্থায় থাকে এমন সমুদ্র সৈকত জার্মানিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে আছে। তবে সাধারণভাবে জার্মানির সকল সৈকতগুলোই নগ্ন। জার্মানির মহিলারা তাদের অবসর সময়ে প্রাকৃতিক পরিবেশে থাকতে পছন্দ করে। সাধারণভাবে তারা এই সকল পরিবেশে উলঙ্গ হয়ে গোসল করতে পছন্দ করে। তাছাড়াও পোশাক বাধ্যতামূলক নয় এমন স্থান নদীর ধার, পার্ক, তেগলার সৈকত, পেনিনসোলা লেক সহ বিভিন্ন জায়গায় জনসমাগম পূর্ণ থাকে। ফ্রান্স সীমান্তে অবস্থিত জার্মানির একটি শহর বাদেন-বাদেন, যেখানে জনসাধারণের নগ্ন ভাবে গোসল করার জন্য অসংখ্য গোসল খানা আছে।

স্পেনের একটি নগ্ন সৈকত

গ্রীস: 


বলা হয় গ্রীসের দ্বীপ সমূহের পৃথক কিছু এলাকা আপেক্ষিকভাবে নগ্ন হবার মধ্যে সীমাবদ্ধ। তবে সত্যিকার ভাবে বলতে গেলে গ্রীসের সকল দ্বীপ বা সমুদ্র সৈকত সমূহ নগ্ন। কমোস, গ্লাইকা নিরা, পালাকিয়াস, ভ্লাইচাদা সৈকত সমূহ স্কোপিলোস দ্বীপ সহ গ্রীসের সকল সৈকত ও দ্বীপ সমূহ নগ্ন। তবে অফিসিয়ালি গ্রীসে কোন নগ্ন স্থানের কথা স্বীকার করা হয় না।

হাঙ্গেরি: 


বুদাপেস্ট থেকে ৫-৩০ কিলোমিটার দক্ষিণের ডিলিগহাজা লেক, বালাটোনবেরিনি সিজেগেড, বালাটোনাকালি সহ হাঙ্গেরির বিভিন্ন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যময় স্থানে নগ্নতার চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায়।

ইতালি: 


ইতালিতে অনেক নগ্ন স্থান রয়েছে। ইমিলিয়া রোমাগনা প্রাচুর্যময় একটি সৈকত। এই সৈকতে সাধারণত পুরুষ ও স্বামী-স্ত্রীরা আসে। এর পিছনে পাইনটা বনের অংশ অবস্থিত, ফলে এখানে শিশুদের নিয়ে আসা হয় না। সিসতিনার নিকটে অবস্থিত ক্যাসালি সৈকত, বারবারি সৈকত, ফ্লিটরি সৈকত, স্পেরলোংগার নিকটে অবস্থিত আরিনাউতা সৈকত সহ অনেক সৈকত সমূহে নগ্নতা দেখতে পাওয়া যায়। গেইন্ট স্যান্ডি সৈকতের মারিনা ডি আলবেরিস নামক স্থানে অফিসিয়ালভাবে নগ্নতাকে বৈধতা দেয়া আছে। গাড়ি পার্কিং এলাকা থেকে এই এলাকাটি ২ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত। ভেন্স, পিভেরো, সিসিলি, রোমা সৈকত সমূহে এবং ইলবা দ্বীপ সমূহ নগ্নতায় পরিপূর্ণ। এছাড়াও ইতালিতে অনেক নগ্ন ছোট-বড় সৈকত, লেক ও দ্বীপ আছে।

আয়ারল্যান্ড: 


নগ্ন ভাবে বিনোদনের জন্য আয়ারল্যান্ডে অনেক স্থান আছে। যে স্থানগুলোতে নারী-পুরুষেরা অবাধে নগ্নতায় মত্ত থাকে।

জার্মানির একটি নগ্ন সৈকত

লাটভিয়া: 


ভিকাকি লাটভিয়ার সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মন্ডিত সমুদ্র সৈকত। রিগা থেকে ৫০ কিলোমিটার দুরে অবস্থিত ইনকুপি একটি মধ্যম সারির সৈকত। এই সৈকত দুটিতে নারী-পুরুষেরা উলঙ্গ ভাবে চলাফেরা বা গোসল করে। লাইলুপি, ভেন্টসপিলস এবং লাইপিজা সৈকত তিনটিও নগ্নতায় পূর্ণ।

লিথুনিয়া: 


লাটভিয়া সীমান্তের ৩০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত পালাংগা লিথুনিয়ার ছোট একটি সৈকত। কালাইপিদা লিথুনিয়ার অফিসিয়ালি সবচেয়ে বড় সৈকত। রাশিয়ান সীমান্ত থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত নিডা লিথুনিয়ার একটি বড় সৈকত। এই সৈকত গুলোর প্রত্যেকটিতে নগ্ন ভাবে গোসল বা অবসর বিনোদনের ব্যবস্থা আছে।

মন্টেনিগ্রো: 


এডি বোজানা মন্টিনেগ্রোর সবচেয়ে বড় নগ্ন সৈকত। ২০০৭ সাল থেকে জাঝ সৈকতের দক্ষিণ অংশ শুধুমাত্র নগ্নতার জন্য নির্ধারিত ঘোষণা করা হয়েছে। বোকা কোটরসকা উপসাগরের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত এনজেভিস গ্রাম। যেটি একটি নগ্ন সৈকত। এছাড়া মন্টেনিগ্রো ও ক্রোশিয়ার সীমান্তে রয়েছে নগ্ন স্থান। যে সকল স্থানে নারী-পুরুষেরা উলঙ্গ হয়ে চলাফেরা করতে পারে।

ইস্তোনিয়ার একটি নগ্ন সৈকত

নেদারল্যান্ড: 


নেদারল্যান্ডের সবচেয়ে দীর্ঘ নগ্ন সৈকতটির নাম বাসলো। ব্লোমেনডাল আন জি সৈকতের উত্তর অংশ নগ্নতায় পরিপূর্ণ। ১৯৭৩ সাল থেকে নেদারল্যান্ডের কলআনসগ বালুকাময় সমুদ্র সৈকতের দক্ষিণের ১.৫ কিলোমিটার এলাকা অফিসিয়ালি নগ্ন হিসেবে ঘোষিত। দেশের উত্তরে অবস্থিত ডেলফ একটি নগ্ন সৈকত। এছাড়াও দি হাগ, কিজিকডুইন, ইজমুইডিন, জান্দভোট সৈকত সহ নেদারল্যান্ডের সকল সৈকতগুলোতেই নগ্নতাকে সম্পূর্ণরূপে বৈধতা দেয়া আছে।

নরওয়ে: 


অসলোর হাক সৈকত, সোগনসভান এর নিকটে এসভার্টকুপ সৈকত, ল্যানগুয়েন দ্বীপের দক্ষিণ অংশ নগ্ন নারী-পুরুষের অবাধ যাতায়াত বেষ্টিত। বার্জিন এর আসকই দ্বীপ নরওয়ের আরও একটি নগ্ন স্থান।

পর্তুগাল: 


লিসবনের নিকটে পিরিয়া ডু মিকো, পিরিয়া ডু বিলা ভিসতা, এলেনটিজোর নিকটে পিরিয়া ডু সালটো, লাগোস এর নিকটে কাবানাস ভেলহাস সৈকত, এলেনটিজোতে পিরিয়া ডু এডিগ্যাস, রিয়ো আলতো সৈকত, ডুনা আলতা সৈকত সহ আরোও বেশ কিছু স্থান নগ্ন। এই স্থান সমূহে নগ্ন নারী-পুরুষেরা অবাধে মেলামেশা করতে পারে।

রোমানিয়া: 


রোমানিয়ার নেপতুন সহ কয়েকটি সৈকত এবং রিসোর্ট নগ্ন। রিসোর্ট সমূহে নারী-পুরুষেরা দিনে-রাতে নগ্ন থাকতে পারে।

ফ্রান্সের একটি নগ্ন সৈকত
রাশিয়া: সেন্ট পিটার্সবাগ ও মস্কোয় বেশ কয়েকটি রিসোর্টে নারী-পুরুষের নগ্ন হবার সুযোগ আছে।

সার্বিয়া: বেলগ্রেডের কয়েকটি প্রাকৃতিক পরিবেশে নগ্ন হবার সুযোগ আছে।

স্লোভাকিয়া: ব্রাটিসলাভা, সিনেক, ডুনাজসকা, কোটেলনিকা, সুতোভো সহ স্লোভাকিয়ার অনেক স্থানে নগ্ন হবার পরিপূর্ণ সুযোগ সুবিধা আছে।

স্পেন: ল্যানজারোট দ্বীপে খারকো দিল পালো, ক্যাটালোনিয়ায় ইল ফোনিল, আন্দালুসিয়ায় ভিরা প্লেয়া, বার্সেলোনার মার ভিলা দ্বীপ, বালিয়ারিক দ্বীপ সহ স্পেনের বিভিন্ন স্থানের অন্তত ৫০০ টি স্থানে নগ্ন ভাবে চলাফেরা ও গোসল করার বৈধতা আছে।

ইউক্রেন: দক্ষিণ-পশ্চিম ক্রিমিয়ার ককটিবেল একটি নগ্ন স্থান। ককটিবেলের লিসা বোহতা উলঙ্গ হয়ে গোসল করার একটি জনপ্রিয় স্থান। ডেলফিন সৈকতের দক্ষিণ অংশে খকালভস্কি সৈকতটি সবার কাছে নগ্ন সৈকত নামে অধিক পরিচিত।

গ্রীসের একটি নগ্ন সৈকত

যুক্তরাজ্য: 


যুক্তরাজ্যের অনেক গুলো স্থানে নগ্ন হবার বৈধতা আছে। হল্কহাম সৈকত, কর্টন সৈকত, লন্ডনে হাইগেট পুকুর, লেসডাউন সৈকত, ইস্তটি সৈকত, ব্লাক গ্যাং সৈকত, স্টুডল্যান্ড উপসাগর তীর সহ অসংখ্য স্থানে নিশ্চিন্তে নর-নারীরা উলঙ্গ হতে পারে। যুক্তরাজ্যে নগ্ন হবার ব্যাপারে সরকারিভাবে কোনও নিষেধ নেই।

স্কটল্যান্ড: ক্লিয়েটস উপত্যকা সহ স্কটল্যান্ডে বেশ কয়েকটি নগ্ন স্থান রয়েছে। যে স্থান গুলোতে নর-নারীরা সহজেই নগ্ন হতে পারেন।
 
উপরের তথ্য গুলো দ্বারা আপনারা জানতে পারলেন ইউরোপের নগ্ন স্থান সমূহের একটি সংক্ষিপ্ত বর্ণনা। এই স্থানগুলো ছাড়াও ইউরোপের প্রত্যেক দেশে দেশে আছে অসংখ্য পার্ক, বিনোদন কেন্দ্র, রেস্তোরা, হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও বার। যে স্থানগুলোতে নর-নারীরা অবাধে মেলামেশা, নগ্নতা ও যৌনতায় মগ্ন থাকে। 

শিক্ষা-দীক্ষা, তথ্য-প্রযুক্তি, উন্নতিতে এই দেশগুলো শীর্ষ স্থান দখল করে থাকলেও আধুনিক সভ্যতার নাম ধরে এই রাষ্ট্রগুলো অসভ্যতায় মগ্ন হয়েছে। আধুনিকতার নামে এই পাপাচার এমনভাবে বিশ্বব্যাপী বিস্তার লাভ করছে হয়তো অল্প কিছু দিনের মধ্যেই বিশ্বের সকল সভ্যতাকে মুছে দিয়ে নগ্নতা আভিজাত্যের সাথে প্রতিষ্ঠা পাবে।


এরকম আরও পড়ুন:
বিশ্ব জুড়ে নগ্ন স্থান সমূহ (পর্ব ২)
বিশ্ব জুড়ে নগ্ন স্থান সমূহ (পর্ব ৩)

২টি মন্তব্য:

Blogger দ্বারা পরিচালিত.