Header Ads

কফি প্রচলনের ইতিহাস ও রাখালের গল্প

বিশ্বব্যাপী সব বয়সী মানুষের কাছে কফি একটি পছন্দনীয় পানীয়। সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে বা অপরাহ্ণে কফি পান করা অনেকের কাছে অতি প্রিয় অভ্যাস। কিছু দিন পূর্বেও কফি শুধু মাত্র ধনী, সম্ভ্রান্ত বা শৌখিন মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। তবে এখন কফি সর্বশ্রেণীর মানুষের কাছে সমান জনপ্রিয়তা পেয়েছে। গরম পানির সাথে দুধ এবং চিনি মিশিয়ে কফি তৈরি করা হয়। এভাবে তৈরিকৃত কফি বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বেশী জনপ্রিয়। তবে কেউ কেউ দুধ বিহীন কালো কফি পান করে থাকেন, যাকে বলা হয় রেন্যাক কফি।


কফি সবার কাছে সমান পরিচিত। আমরা সবাই কফি পান করে শরীরকে সতেজ করি তবে আমরা কি জানি কিভাবে এলো এই কফি! জানা না থাকলে আসুনে আমরা জানার চেষ্টা করি। বহু শতাব্দী আগে আরবে এক মেষ পালক গিয়েছিলেন মেষ চরাতে। কিছু সময় পর মেষ চালক খেয়াল করেন তার মেষগুলো অন্যদিনের থেকে ভিন্ন আচরণ করছে। তারা লাফালাফি করছে এমনকি ছোট মেষ শাবকদের মতোই দুষ্টুমি করছে। 

মেষ পালক অবাক হলেন এবং কারণ খুঁজতে লাগলেন কেন মেষগুলো আজ এমন অদ্ভুত আচরণ করছে। তিনি খেয়াল করলেন তার মেষগুলো সবুজ এক প্রকার উদ্ভিদের লাল ফল খেয়ে এমন অদ্ভুত আচরণ করছে। এই ফল খাওয়ার পর কেন মেষগুলো এমন করছে তা জানার জন্য সে নিজেই ওই ফল খাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলো। খাওয়ার পর সে নিজেকেও মেষদের মতোই প্রাণবন্ত ও চাঙ্গা অনুভব করলো। সে তার এই অভিজ্ঞতাকে মাঠের পাশের এক সন্ন্যাসীকে জানাল। ওই সন্ন্যাসীও যখন ওই ফল খেল তখন একই অভিজ্ঞতা লাভ করলো। তারা এই ঘটনাটিকে গ্রামে জানাল। 

তাদের কথা শুনে যে সকল গ্রামবাসী ওই ফল খেল তারাও ভিন্ন অনুভূতির স্বাদ পেল। এভাবে এই ফলের গুণের কথা গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে ছড়িয়ে পড়ল। এরপর তার খ্যাতি ছড়াতে লাগলো দূর থেকে দূরান্তরে।

হ্যাঁ, সেই ফলটা ছিল কফি ফল। যা বর্তমানে আমাদের কাছে আধুনিক কফি নামে পরিচিত। গল্পটির সত্যাসত্য যাচাই করা কঠিন। তবে এ কথা প্রমাণিত হয়েছে যে, সর্বপ্রথম কফির প্রচলন হয়েছিল আরবে। সপ্তদশ শতাব্দীর দিকে ব্রিটেনে কফির প্রচলন শুরু হয়। ১৬৫০ সালে অক্সফোর্ডে পৃথিবীর প্রথম কফি হাউজ খোলা হয়। আর এভাবেই বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় পানীয় হিসাবে জায়গা দখল করে নেয় কফি।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.