Header Ads

বিশ্বের সবচেয়ে বিপদজনক ৬টি সেতু

সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রে সেতু একটি বিশেষ প্রয়োজনীয় উপাদান। যে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা যত ভাল সে দেশ তত উন্নত। সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে নিরবিচ্ছিন্ন করতে সেতুর বিকল্প নেই। সেতু সাধারণত নদীর উপরে স্থাপিত হয়। এছাড়াও সমুদ্রের বুকে, এক পাহাড় থেকে আরেক পাহাড়ে, এক পর্বত থেকে আরেক পর্বতেও সেতু স্থাপন করা হয়। আমাদের দেশে সেতু নদীর উপর নির্মাণ করা হলেও বিশ্বের অনেক দেশে সেতু পাহাড়-পর্বতের মাঝে নির্মাণ করা হয়। বিশ্বের অধিকাংশ সেতু নিরাপদ তবে বিশ্ব জুড়ে বেশ কিছু সেতু আছে যেগুলো খুবই বিপদজনক। আসুন আমরা এরকম বিশ্বের সবচেয়ে বিপদজনক ৬টি সেতু সম্পর্কে জানার চেষ্টা করি।

রয়েল জর্জ ব্রিজ:


বিশ্বের অন্যতম বিপদজনক এই সেতুটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত। এটি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ঝুলন্ত সেতু। এই সেতুটি খুবই উঁচুতে অবস্থিত। উচ্চতার কারণে এই সেতুতে আরোহণ করলে শ্বাসকষ্ট সৃষ্টি হয়। সেতুটির উচ্চতা ৯৬৯ ফুট এবং লম্বায় ১২৬০ ফুট। এই সেতুটি দুটি বৃহৎ পর্বতকে একত্রিত করেছে। যার নীচ দিয়ে ঝর্ণা প্রবাহিত হয়েছে। এই সেতুটির উপর দিয়ে চলমান যানবাহন সমূহকে দূর থেকে পিঁপড়ার মতো মনে হয়। সেতুটি দুটি বৃহৎ পর্বতের মাঝে এমনভাবে ঝুলে আছে যা দেখলে বা তাতে আরোহণ করতে গেলে আপনার পিলে চমকে যাবে।

আগুইলা ডি মুদি ব্রিজ:


বিশ্বের অন্যতম একটি বিপদজনক সেতু হচ্ছে আগুইলা ডি মুদি ব্রিজ। এই সেতুটি ফ্রান্সে অবস্থিত। সেতুটির উচ্চতা এতই বেশী যে, এর নীচের দিকে তাকানো যায় না। এই সেতুটিও দুটি পর্বতের মাঝে অবস্থিত। তবে সৌভাগ্যের বিষয় হচ্ছে, সেতুটি আয়তনে ছোট। সমুদ্র পৃষ্ঠ হতে সেতুটি ১২৬০৫ ফুট উঁচুতে অবস্থিত। এই সেতুর একপ্রান্তের পর্বতে বিভিন্ন ভবন তৈরি করা হয়েছে এবং অপর প্রান্তে একটি গুহার মতো স্থানে প্রবেশ করতে হয়। সেতুটির নীচেও পর্বত অবস্থিত।

ট্রিফ সাসপেনশন ব্রিজ:


ট্রিফ সাসপেনশন সেতুটি বিশ্বের অন্যতম একটি বিপদজনক সেতু। এটিই সবচেয়ে দীর্ঘ সুউচ্চ পায়ে হাটার ঝুলন্ত সেতু। ২০০৪ সালে এই সেতুটি নির্মাণ করা হয়। সুইজারল্যান্ডের গ্রাডমেন শহরের পর্বত মালায় এই সেতুটি অবস্থিত। সেতুটির উচ্চতা ৩২৮ ফুট এবং দৈর্ঘ্য ৫৫৮ ফুট। সেতুটি দুটি পর্বতের মাঝে অবস্থিত এবং ধারে সাগর অবস্থিত। সেতুটি এতই বিপদজনক যে, পার হওয়ার আগেই সেটি দেখে আপনার ভয়ে গা শিউরে উঠবে।

ক্রিক এ রেডি রোপ ব্রিজ:


এই সেতুটি নর্দান আয়ারল্যান্ডের অনট্রিম কাউন্ট্রির ব্যালিনটয়ের কাছে অবস্থিত। বহু পর্যটক খুব সহজে এই সেতুটির উপর দিয়ে পায়ে হেটে পার হয়েছেন। যদিও সেতুটি ভয়ংকর তবু মাছ শিকারিরা সেতুটি বেশী ব্যবহার করেন। সেতুটি রশি দিয়ে তৈরি বলে পর্যটকদের বেশী আকৃষ্ট করে। এই সেতুটি ৬৫ ফুট লম্বা এবং ১০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত। সেতুটি সাগর বেষ্টিত দুটি পাহাড়কে একত্রিত করেছে।

কেপিলান সাসপেনশন ব্রিজ:


এই সেতুটি খুবই বিপদজনক। সেতুটির উপর দিয়ে হেটে পার হতে গেলে ভয়ে মানুষ আঁতকে উঠে। সেতুটির অবস্থান সবুজে ঘেরা বনের মাঝে। সেতুটির উচ্চতা, সরুত্ব এবং এর নড়াচড়া ভয়ের সৃষ্টি করে। ১৮৮৯ সালে সেতুটি প্রথম নির্মাণ করা হয়। ৪৫০ ফুট লম্বা ২৩০ ফুট উচ্চ সেতুটি ব্রিটিশ কলম্বিয়ার নর্থ ভ্যানকুভারের কাপিলান নদীর উপর সেতুটির অবস্থান। দূর থেকে দেখলে মনে হয় বনের উপর দিয়ে বড় ধরনের কোন দোলনা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

সিদু রিভার ব্রিজ:


এই সেতুটি অবস্থিত চীনে। ২০০৯ সালে যখন এই সেতুটি উদ্বোধন করা হয় তখন এটি ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সেতু। চীনের হুবি প্রদেশের জর্জ নদীতে এই সেতুর অবস্থান। সেতুটির উচ্চতা ১৫৫০ ফুট। চারিদিকে পর্বতে ঘেরা সেতুটি দেখলে ভয়ের উদ্রেক হয়। সেতুটি দুটি পর্বতকে একত্রিত করেছে। যার নিচ দিয়ে চীনের বিখ্যাত জর্জ নদী প্রবাহিত হয়েছে। সেতুটি দর্শনীয় হিসাবে বেশ পরিচিতি পেয়েছে। প্রতি বছর অসংখ্য পর্যটক সেতুটি দেখতে আসেন।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.